43330

ফান্ড নিয়ে মিশা ও জায়েদের ‘নয়-ছয়’

বিনোদন প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নিয়মানুযায়ী প্রতি বছর বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু নিয়ম মেনে তা হয় নি। সমিতির নির্বাচিতদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনাগ্রহের কারণে সেটি আর হয়ে উঠেনি বলে জানা যায়। এ নিয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভও ছিল।

এদিকে গতকাল শুক্রবার এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব চত্বরে এজিএমের ডাক দেন শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। অথচ সেই কমিটির চল্লিশ ভাগ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, মিশা, জায়েদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি রিয়াজ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অঞ্জনা, নাসরিন, জেসমিনসহ আরও কয়েকজন। তবে এজিএমে উপস্থিত ছিলেন প্রায় দুই শতাধিক সাধারণ সদস্য।

এজিএমে বেশকিছু বিষয় নিয়ে হট্টগোল বাঁধে। এর মধ্যে সহ-সভাপতি রিয়াজসহ অন্য সদস্যদের কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। একপর্যায়ে রাগে ও ক্ষোভে এজিএম থেকে ওয়াক আউট করে চলে যান চিত্রনায়ক রিয়াজ। এ সময় উপস্থিত সদস্যরা রিয়াজের পক্ষে কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

চিত্রনায়ক রিয়াজ জানান, শিল্পী সমিতি কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। এটা ব্যক্তিগত লাভের জায়গা নয়। এখানে কেবল শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করা হয়। সেকারণে শিল্পীদের জন্য কাজ করতে গিয়ে দেখি তাদের স্বার্থের পরিপন্থী অনেক কিছু ঘটছে ভিতরে ভিতরে।

আমার কাছে সব শিল্পী সমান। আমি মনে করি প্রতিটি শিল্পীর মর্যাদাও সমান। কোনো শিল্পীকে দু’রকম দৃষ্টিতে দেখতে পারিনা। আমার কাছে যেগুলো অনৈতিক মনে হয় সেগুলোর প্রতিবাদ করি সবসময়। এই একই নিয়ম দুজনের জন্য দু’রকম করা হচ্ছে। যারা দুর্বল তাদের জন্য কথা বলার মানুষ নেই। এসব বিষয়গুলো নিয়ে আমি সব মিটিংয়ে প্রতিবাদ করেছি। শিল্পীদের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করেছি। নতুন ভোটার তালিকায় অনেককে বাদ দেয়া হয়েছে। বার্ষিক সাধারণ সভার অনুমোদন ছাড়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যায় না। কমিটির কয়েকজন সদস্য প্রভাব খাটিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন। এসব অনিয়মের ব্যাপারে সভায় কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা সুযোগ দেয়নি। আমাকে কথা বলতে দেয়নি কারণ তারা হয়ত ভয় পেয়েছেন। আমি তো ইতিবাচক কথাও বলতে পারতাম। তারা আমার কথা না শুনেই ভয়ে কথা বলতে দেননি। এই এজিএমটা রাজনৈতিক ভাবনায় পরিকল্পিত।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও কমিটির কোষাধ্যক্ষ যে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন, তা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। দুই বছরে অনুদান হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সংগ্রহ করেছে ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকা। শিল্পীদের জন্য খরচ হয়েছে দুই লাখ ৯১ হাজার ৩০০ টাকা। বাকি টাকা কেন ফান্ডে ফেলে রাখা হয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর দিক তারা।

কমিটির ফান্ডে কোথা থেকে কত টাকা এসেছে, কিভাবে খরচ হয়েছে তার হিসাব দেখার অধিকার প্রতিটি শিল্পীর দেখার এখতিয়ার আছে। কিন্তু তারা কখনো তা দেখাননি। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো একটি হিসাব দেখানো হয়েছে। আমি এমন না যে হিসাব নিকাশ বুঝি না। শুধু আমি না, আমাদের শিল্পীরা এই হিসাব কখনোই দেখতে পারেননি।

আমরা যারা মিশা-জায়েদ প্যানেলে ছিলাম তাদের ৭০ ভাগ সদস্য এবারের নির্বাচনে তাদের প্যানেলে নেই। এমন না যে, আমাদের বাদ দেয়া হয়েছে। আমরা তাদের বয়কট করে বের হয়ে এসেছি। কারণ, এই কমিটি আমাদের কখনো সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এখানে প্রচুর স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

অন্যদিকে নির্মাতা অমিতাভ রেজা এফডিসি কর্তৃপক্ষের নানা অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি বলেন, ‘সরকার চলচ্চিত্রের জন্য প্রচুর পরিমাণে টাকা বিনিয়োগ করছে। কিন্তু মাঝখানের কিছু ‘চোর-ছ্যাচড়ার’ কারণে আমাদের চলচ্চিত্র এগোচ্ছে না। টাকা মেরে দেওয়া হচ্ছে। আমি চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদানের আবেদন করলে দেখি একজনে বলছে পাঁচ লাখ টাকা দেন পেয়ে যাবেন। এখন সরকার নানা জায়গায় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। আমরা চাই সিনেমা হলগুলোর দিকেও বিষয়টি আসুক।’

এফডিসিতে নানা অনিয়মের বিষয়ে অমিতাভ রেজার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে এক সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এফডিসিতে আগের মতো এসব অনিয়ম চলবে না।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *